অচেনা শহর - গল্প বাজার

অচেনা শহর পর্ব ৩০ || ochena shohor golpo

অচেনা শহর

অচেনা শহর পর্ব ৩০
লেখিকা:– তানজিনা আক্তার মিষ্টি

স্নেহা অন্য দিকে চলে গেছে। আদ্রকে খুঁজছে এদিকে ওদিকে। আর ভুল করেও কিছু তেই হাত দেয় নাই স্নেহা।
আদ্রকে না পেয়ে গোমরামুখো করে এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে স্নেহা‌।
মন প্রচন্ড খারাপ হয়ে আছে।এতো ক্ষন খুশি ছিলো এতো বড় শপিং মলে এসে কিন্তু এখন আর সেই খুশি ওর
মাঝে নেই। মুখ কালো করে দূরের এক ছোট বাচ্চার দিকে তাকিয়ে আছে স্নেহা। বাচ্চা টাকে তার বাবা ও মা
জামা দেখাচ্ছে একটার পর একটা কিন্তু মেয়েটা সব ড্রেস দেখেই না দেখাচ্ছে। মানে তার পছন্দ হয় নাই।
বাবা মা দুজনেই ক্লান্ত হয়ে দুজনেই দুজনের দিকে তাকালো অসহায় মুখ করে।এটা দেখে মেয়েটা খিল
খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো। তার একটা ড্রেস হাতে নিয়ে বুঝানো এইটা তার পছন্দ অথচ আগেই এই ড্রেসটা
ওকে দেখানো হয়েছিল ও না করছিল।

কাজ দেখে আমি নিজেও হেসে উঠলাম।
কি দুষ্টু মেয়ে টা? এতোক্ষণ সবাইকে হয়রানি করলো।
“কি ব্যাপার এমন পাগলের মত একা একা হাসতো কেন?”
আদ্রর মুখে পাগলের মত হাসছি শুনে রেগে তাকালাম ওনার দিকে। আদ্র বিস্ময় চোখে তাকিয়ে
আছে আমার দিকে, আমি তাকাতেই ভ্রু কুঁচকালো,,,
চোখ দুটো বড় বড় করে রেগে বললাম,,,
“কি বললেন আমি পাগলের মত হাসছি।আপনি আমাকে পাগল বললেন।”

আরও গল্প পড়তে আমাদের গুপ এ জয়েন হউন

“তুমি তো পাগল ই।অকারণে যেভাবে একা একা হাসছিলে যে কেউ তোমাকে পাগল ই ভাববে‌। ”
“দেখুন মুখ সামলে কথা বলুন।না জেনে একদম ফালতু কথা বলবেন না। আমি অকারণে হাসছিলাম
আপনাকে বললো কে?”
“বলার কি আছে তুমি তো অযথাই হাসছি সেটা আমি জানি।”
“আপনি কি করে বুঝলেন আমি করছি হাসছিলাম।”
“তোমাকে দেখো।”
স্নেহা ভ্রু কুঁচকে বলল,,
” আমাকে দেখে?”
“হ্যা।”

“দূর আপনার সাথে কথা বলাই বেকার। চলুন তো আপনার জন্য আমার ক্লাস মিস হলো। আবার এখন
আমাকে পাগল বলছেন। নিজে পাগল সেটা না বলে আমাকে বলা হচ্ছে যতসব ফালতু।”
” তা কি জন্য হাসছিলে শুনি।”
“বলতাম না।চলুন।”
যেতে গিয়ে ও থেমে যায় স্নেহা পেছনে ফিরে আদ্রর হাতের দিকে তাকিয়ে আছে। বিস্ময় চোখে আদ্রর মায়ের
শাড়ি তো আমার হাতে তাহলে আদ্রর হাতে কি?
“আপনার হাতে?”
স্নেহার কথায় কিছু টা থতমত খেয়ে যায় আদ্র।
স্নেহা ওর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।

.

“কি হলো বলছেন না কেন? আন্টির শাড়ি তো আমার হাতে তাহলে আপনার হাতে কি?”
“কিছু না।”
‘কিছু না মানে কি? আমাকে কি অন্ধ মনে হয় আপনার।”
“উফ স্নেহা চলো তো আর এটাতে আমার একজন আপন জনের জিনিস আছে। তোমাকে বলা যাবে না চলো‌।”
“আপন জন। সেটা আবার কে?”
“আমার ভালোবাসা মানুষের জন্য স্পেশাল জিনিস আছে।”
চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে থেকে কিছু একটা ভেবে সামনে এগিয়ে গেলো স্নেহা।
বুকটা ধ্বক করে উঠলো যখন আদ্রর মুখে আমার ভালোবাসা কথা শুনেছি।
আদ্র ভালোবাসা কথা বলার সময় ওর মুখ টা খুব খুশি দেখাচ্ছিল। হয়তো তাকে খুব ভালোবাসে।কে সে মারিয়া।
দূর তাকে নিয়ে আমি ভাবছি কেন?
সারা রাস্তা স্নেহা আর আদ্রর সাথে ঝগড়া করলো না আদ্র খোঁচা দিলে ও স্নেহা নিরব‌ই থেকেছে।

রাত ৯টা বাজে।
স্নেহা গ্রিল এ হাত দিয়ে কুয়াশায় ডাকা রাস্তা দিকে তাকিয়ে আছে। কেন যেন মনটা বিষন্ন হয়ে আছে কি কারণ তা জানা নেই।
কিন্তু মনটা আজ খুব খারাপ হয়ে আছে ভেতরটা চাপা কষ্ট হচ্ছে।কিসের জন্য বুঝতে পারছে না।
আদ্রর মুখে ভালোবাসা মানুষের কথা শুনার পর থেকেই এমন লাগছে। অভিমান হচ্ছে কেন হচ্ছে কার উপর হচ্ছে আদ্রর উপর। কিন্তু কেন ও কে আমার? আর আমি তো আগে থেকেই জানতাম জনির গার্লফ্রেন্ড আছে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এটা শুনে আমার কে খারাপ লাগছে। আমি কি ছিঃ কি সব ভাবছি ওনাকে আমি সহ্য‌ই করতে পারি না। অসভ্য একটা ছেলে হব সময় আমাকে ডিস্টার্ব করে। আমাকে জ্বালিয়ে নিজের আনন্দ পায়।
নিজে নিজে আদ্রকে হাজার টা গালি দিলো।

.

ছাদের দাঁড়িয়ে আছে স্নেহা।
এটা কিন্তু বাসায় ছাদ না এটা ভার্সিটির ছাদ একটু আগে এখানে এসেছে স্নেহা। আজ কেন জানি আসতে ইচ্ছে হলো এতো দিন একবার ও আশা হয় নাই‌।
তাই ইচ্ছে টাকে দমাতে পারেনি।চলে এসেছে ছাদ ফাঁকাই তাই আর ও বেশী ভালো লাগছে স্নেহার। অন্তরা আসে নাই কয়দিন আসবে ও না। নানুবাড়ি গেছে যে।
ছাদের কিনারে দাঁড়িয়ে নিচে তাকিয়ে মাঠের সবাইকে স্কান করছে। হঠাৎ আদ্রর দিকে চোখ পরলো বাইকের উপর বসে এদিকেই তাকিয়ে আছে। স্নেহা আদ্রর দিকে তাকালো আদ্রর এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওর দিকে । এভাবে তাকিয়ে থাকাতে দেখে স্নেহার ভ্রু কুঁচকে উঠলো,,,
এভাবে তাকিয়ে আছে কেন? আমার উপর নজর রাখছে নাকি।

চোখ সরিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে র‌ইল। আবার আদ্রর দিকে চোখ তুলে তাকালো এখন এক‌ই ভাবে তাকিয়ে আছে। দূর এখানে থাকবো‌ই এভাবে তাকিয়ে আছে কেন জানতে হবে আমার উপর নজর রাখছে কেন?
রাগে গজগজ করতে করতে স্নেহা নিচে নেমে এলো।
দুতালায় এসে থামি ক্লাস রুমে ঢুকার আগে আর একবার আদ্রর দিকে তাকায় নিচু হয়ে।
এখন আদ্র ওর ফ্রেন্ডদের সাথে হাসাহাসি করছে।
কি হাসি? খাটাশ একটা কেমন ভাবে তাকিয়ে ছিলো যেন চোখ দিয়েই ভষ্স করবে।সব সময় আমার পিছনে লাগা। লুকিয়ে দেখছিলাম। আদ্রর দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম হঠাৎ আদ্রর দুতালায় তাকায় আর আমার সাথে চোখাচোখি হয়ে যায়। ওফফ কি লজ্জ্বা টাই না পেলাম।
মনে হচ্ছে চুরি করতে গিয়ে ধরা খেয়েছি। আদ্র স্নেহার দিকে তাকিয়ে ঠোট কামড়ে হেঁসে ইশারায় জিজ্ঞেস করে কি?
এটা দেখেই স্নেহা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে যায়। তারপর দ্রুত পায়ে হেঁটে ক্লাসে ঢুকে যায় ‌।
আদ্র কি ভাবছে আমি ওর দিকে তাকিয়ে ছিলাম তাও লুকিয়ে।

.

“তুমি আমার দিকে ওইভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে তাকিয়ে ছিলে কেন??”
দুষ্টু হাসি মুখে এনে কথাটা বলল আদ্র,,,
স্নেহা কটমট চোখ করে তাকিয়ে বলল,,
” কি বলতে চান আপনি? আমি লুকিয়ে কোথায় আর আপনার দিকে কে তাকিয়েছিল আমি। একদম না আমি তো ওই যে ওইদিকে তাকিয়ে ছিলাম।”
আদ্র পাশে দাঁড়িয়ে সেদিকে তাকালো আদ্রর অপর দিকে দেখিয়ে বলেছে স্নেহা।
আদ্র অবাক মুখ করে বলল,,,
” ও মাই গড বলো কি তুমি ওইদিকে তাকিয়ে ছিলে।রিয়েলি!”
চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে আদ্র স্নেহার দিকে আর বলছে।

স্নেহা হা করে তাকিয়ে আছে আদ্রর দিকে আদ্র এমন বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে অবাক ভঙ্গিতে কথা বলার
কারণ বুঝতে পারছে না।
“মানে।”
“তোমার চোখ টেরা। দেখি এদিকে তাকাও তো রিয়েলি এতো দিন ধরে তোমাকে দেখছি কখনো টেরা মনে
হয়নি।”
বিস্ময়ে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে আদ্রর দিকে।আদ্র ওকে টেরা চোখা বলছে রাগে ওর আদ্রর চুল টেনে ছিলে
ফেলতে ইচ্ছে হচ্ছে।
“এই যে এমন করে তাকিয়ে আছো কেন মনে হচ্ছে চোখ দিয়ে জ্বালিয়ে দেবে আমাকে।”

.

“পারলে সেইটাও করতাম আপনাকে আমার মেরে ফেলতে ইচ্ছে হচ্ছে। আপনি আমাকে টেরা বললেন ছিঃ।”
“তুমি না বললে।”
“আমি, আমি কখন বললাম। একদম ফাজলামি করবেন না দেখুন ভালো করে আমি কোন দিক দিয়ে আমার
চোখ টেরা।”
“মনে হচ্ছে না কিন্তু তুমি যদি তখন আমার দিকে তাকিয়ে না থাক বুঝবো টেরা কারণ তখন তোমার চোখ
আমার দিকে ছিলো।”
“হুম ছিলাম তো কি হয়েছে আমি ছাদে থাকতে ও তো আপনি আমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। তখন কেন
তাকিয়ে ছিলেন বলেন।”
“আমি তাকিয়ে ছিলাম তুমি জানলে কি করে তার মানে তুমি আমার দিকে ছিলে?”
কথাটা শুনে স্নেহা আমতা আমতা করতে থাকে।

“আমি তাকাই নি আমি তো দেখছিলাম আপনি তাকাচ্ছেন নাকি আমার দিকে।”
“ওহ ভালো আমি কোন দিকে তাকায় সেদিকে ও লক্ষ্য রাখো।”
স্নেহা বলল,,, না
আদ্র চলে গেল।
স্নেহা নিজে ও টিউশনি তবে চলে গেল।

দুইদিন পর
অন্তরা আর আমি লাইব্রেরীতে বসে আছি।
দুজনে এক্সাম নিয়ে টেনশন এ আছি । আজ‌ই জানিয়েছে এমাসের এক্সাম শুরু হবে।
আমার থেকে অন্তরা বেশি চিন্তিত।
শুনার পর থেকে গোমড়া মুখে বসে আছে।
“স্নেহা রে আমার কি হবে? কিছু তো পারিনা।”
“চুপচাপ বাসায় গিয়ে প্রেম বাদ দিয়ে পড়া শুরু কর। আমি ও তো তেমন কিছু পারিনা।”

.

“চুপ কর আসলে তো ব‌ই নিয়ে ‌ই বসে থাকিস তোর এক্সায় ভালো হবে জানি।
আর আমি তো সব বাদ দিয়ে প্রেম শুরু করেছি।”
“সেটা তো তোমার ইচ্ছে তেই।”
“হ্যা হৃদয় খুব ভালো রে। আমাকে অনেক ভালোবাসে।”
“এতো তারাতাড়ি কাউকে বিশ্বাস করা কি ঠিক।”
‘না কিন্তু ওকে করা যায় ও আমাকে অনেক ভালোবাসে। আমি ছাড়া কিছুই বুঝে না।পাগল একটা।”
“আচ্ছা এসব বাদ পরতে দে।”

স্নেহা পরতে লাগলো আর ভাবছে অন্তরা হৃদয়ের জন্য পাগল হয়ে গেছে জিতে এখন নাম উঠাতেই একা একাই হাসছে।
এর নাকি পরিক্ষা নিয়ে চিন্তা কে বলবে।
ফোন টিপছে তারমানে কল করবে এখন।ওর জন্য পাগল কিনা জানিনা ও মে তার জন্য একদম পাগল হয়ে
গেছে সেটা স্পস্ট।

রায়াকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি গেটের সামনে।আজকে আমি রুনা আপু রানী রায়াকে নিয়ে পার্কে যাব।
আমার যাওয়ার একটু ও ইচ্ছে ছিলো না আপু‌ই জোর করে নিয়ে এলো।ছারলো‌ই না।
বাসায় কাছেই একা পার্ক আছে সেখানটাই ই যাচ্ছি আজ তো শক্রবার কলেজ টিউশনি অফ।
একটু পর অটো চলে এলো সবাই উঠে বসলাম আপু রায়াকে নিতে চাইলো দিলাম না।
বাচ্চা আমার বরাবরই পছন্দ সবসময় কোলে রাখতে মন চায়।
রায়াকে কাছে পেলেই কোলে রাখাটা মিস করিনা।

রায়ান গলা জরিয়ে ধরে থাকে সুন্দর করে “মিষ্টি আন্টি” বলে গালে চুমু খায়। ওকে আমার এতো ভালো লাগে
বলে বুঝাতে পারব না।
আমাকে ভাড়া দিতে দিলো না আপু‌ই দিলো।
পার্কে এসেই রানী রায়া সেকি খুশি লাফিয়ে লাফিয়ে ছুটাছুটি করছে। দুজনে যে খুব খুশি ওদের লাফালাফি
দেখেই বুঝা যাচ্ছে।
আমার ও ভালো লাগছে আগে কখনো পার্ক নামক জায়গায় আশা হয় নাই‌।নাম শুনি নাই এমন না তা শুনেছি
কিন্তু যাই নাই।
অসম্ভব সুন্দর ফুলের বাগানে চলে এসেছি ।

অচেনা শহর পর্ব ২৯

আর একটু এগিয়ে বিল পেয়ে গেলাম অনেক মানুষ আছে আপুদের রেখেই চলে এসেছি সে খেয়াল নাই‌।
হঠাৎ একটু ঝোপের দিকে চলে এলাম ঘুরতে ঘুরতে। তারপর একটা আপত্তিকর জিনিস দেখতে পেলাম।
সঙ্গে সঙ্গে আমার চোখ দুটো ইয়া বড় হয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে চোখ হাত দিয়ে চিৎকার করে উঠলাম আসলে
করতে চাই নাই হয়ে গেছে।
চিৎকার করে নিজেই বোকা বনে গেলাম তারাতাড়ি চোখ খুলে সামনে তাকিয়ে দেখি ছেলে মেয়ে দুজনে
হাওয়া আর একটু দূরে চোখ দিয়ে দেখি দুজনে দৌড়ে পালাচ্ছে।
ছিঃ কি দেখলাম ছিঃ ছিঃ ছিঃ।

ছেলে মেয়েটাকে ইচ্ছামত বকতে লাগলাম বিড়বিড় করে। এরা এসব করতে এখানে আসে‌।এবার সব কোনায়
ঝোপের আড়ালে আমার চোখ গেল আম্র কতো কাপেল আছে যারা আর ও বেশি কিছু করছে।
লজ্জায় ঘৃণায় মুডটাই নষ্ট হয়ে গেল আমার।
এতোক্ষণের সমস্ত ভালো লাগা ধংস হয়ে গেল।
আর ঘুরবো‌ই না।আপুদের কাছে যাই।
নিচের দিকে তাকিয়ে তবুও বকেই যাচ্ছি। হঠাৎ কারো সাথে ধাক্কা লাগল মাথায়। রেগে মাথাটা উঁচু করে
তাকালাম,,,

অচেনা শহর পর্ব ৩১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.