ইস্ক মোবারাক - Golpo Bazar

ইস্ক মোবারাক শেষ পর্ব  || couple love story

ইস্ক মোবারাক

ইস্ক মোবারাক শেষ পর্ব 
লাবিবা ওয়াহিদ

সামনের মানুষটি আর কেউ নয় ইশরার সাদাফ। সাদাফ মুচকি একটা হাসি দিয়ে স্টাইল করে ইশরার দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ইশরার নিজের অজান্তেই চোখ দিয়ে দুফোটা জল গড়িয়ে পড়লো। সাদাফ এক পা এক পা করে ইশরার দিকে এগিয়ে আসছে ইশরার সামনে এসে দাঁড়িয়ে সাদাফ আলতো করে ইশরার চোখের জল মুছে দেয়। সাদাফের ঠান্ডা হাতে স্পর্শে ইশরা শিউরে উঠে। আজ কতো গুলো বছর পর সাদাফকে দেখলো তার স্পর্শ পেলো এতে ইশরার অনুভূতি টা বলা মতো নয়। নিরবতা ভেঙে সাদাফ খুবই নরম সুরে বলে,”আমি এসেছি তোমাকে নিজের কাছে ফিরিয়ে নিতে।”

ফিরে যাওয়ার কথা শুনে ইশরার ধ্যান ভাঙে। ধ্যান ভাঙতেই ইশরার মাঝে হাজার অভিমানে ভর করলো। এতো বছর ইশরা কষ্ট করেছে এতো সহজে সে ভুলতে পারবে না আর ক্ষমা তো দীরে থাক। ইশরা তৎক্ষনাৎ সাদাফকে ধাক্কিয়ে চলে যেতে নিলো ওমনি ইশরাকে হেচকা টান দিয়ে সাদাফ ইশরাকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো। ইশরা নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে লাগলো।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গুপ এ জয়েন হউন

– ছাড়েন আমাকে।
– আমাকে ধাক্কিয়ে চলে যাওয়ার সাহস কি করে হয় তোমার?
– ছাড়েন!
– আগে উত্তর দাও তারপর ছাড়বো।
– আমার দেরি হচ্ছে তাই এই মাঝ রাস্তায় এমন অসভ্যতামি করবেন না একদমই!
– বয়েই গেছে আমার তোমার কথা শুনতে।
– তাহলে আমারও বয়েই গেছে আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে।
– আমাকে নকল করছো?
– কোনো কালেই করিনি।
– আমার দিকে তাকাও।

তবুও ইশরা তাকালো না না সে এক মনে নিজেকে ছাড়ানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। সাদাফ আরও কাছে নিয়ে এসে বলে,”লুক এট মি মাই এংগ্রি বার্ড।”
তাও ইশরার কোনোরকম রেসপন্স নেই। শেশজে সাদাফ কোনোরকম উপায় না পেয়ে ইশরাকে কোলে তুলে নিলো। ইশরা আরও ছোটাছোটি শুরু করে দিলো।
– সমস্যা কি আপনার আমাকে কোলে নিলেন কেন নামান, নামান বলছি আপনি কোনোভাবেই আমার সাথে জোরজবরদস্তি করতে পারেন না ছাড়ুন।
ইশরা আর সাদাফের সিনক্রিয়েট দূর থেকে কিছু পুলিশ দেখতেই তাদের সামনে চলে আসে এবং বলে,”ওয়াট ইউ আর ডুইং!”

– শি ইজ মাই ওয়াইফ সো আই উইল ডু এনিথিং উইথ হার! ডোন্ট ওয়েস্ট মাই টাইম!
– একদম না আমি একদমই তার কিছু হইনা আমাকে ছাড়তে বলুন।
পুলিশরা ইশরার বাংলার আগা মাথা কিছুই বুঝতে পারলো না। একজন বলে উঠে,”ওয়াট ইজ শি সেয়িং?”
– নাথিং এলস! ইউ গাইস ক্যান গো নাও।

পুলিশগুলো বেক্কল বনে চলে গেলো আর সাদাফ ইশরাকে কোলে করে এনে নিজের গাড়িতে বসালো এবং নিজেও বসলো। ইশরা দরজা খুলে বের হয়ে যাবার আগেই সাদাফ দরজা লক করে ফেলে তারপর ইশরার দিকে কিছুটা ঝুকে বলে,”এতো নিজের এনার্জি লস কেন করছো বউ?”
সাদাফের মুখে ‘বউ’ ডাকটা শুনে ইশরা কিছুটা শিউরে উঠলেও সাদাফকে বুঝতে না দিয়ে বলে,”ছাড়েন আমায় বাসায় যাবো।”

– তুমি কই যাবা না যাবা সেটা আমি ডিসাইড করবো তুমি নও।
– দেখেন আপনি কিন্তু প্রথম থেকে অনেক ঝামেলা করছেন আমি কিন্তু আপনাকে পুলিশে দিবো।
ইশরার কথা শুনে সাদাফ না হেসে পারলো না। হাসতে হাসতেই ইশরার দিকে আরও কিছুটা ঝুকে বলে,”ওহ রিয়েলি তাহলে যাও পুলিশের কাছে দেখি কি করে যেতে পারো।”
সাদাফের গরম নিশ্বাস ইশরার মুখে এসে পড়ছে এতে করে ইশরার কাঁপাকাঁপি অবস্থা। অনেক ভাবে সাদাফকে সরানোর চেষ্টা করলো কিন্তু কিছুতেই পারলো না।

– বউ তুমি তো দেখছি আগের থেকেও লাঠি হয়ে গেছো?
– লাঠি হই বা কাঠি হই তাতে আপনার কি?
– আমার বউ আমি দেখবো না আমার বউটা হেলদি নাকি আনহেলদি।
– উফফফফ আপনার এই বউ বউ কুরা বন্ধ করেন তো এএএএএহ বউ বইল্লা এক্কেরে দরদ উতলাই পড়ে ওনার। কই আগে তো কখনো বলেন নাই!
– তুমি বলতে দিলে তো বলবো আর আমি সঠিক সময়ের অপেক্ষায় ছিলাম আর সময় যেহেতু হএছে মিস করা যায় বলো বউ?
– সঠিক সময় মানে?(অবাক হয়ে)

অনি কিছুদিন ধরে প্রচুর রক্তবমি করছে আর বারবার সেন্স হারাচ্ছে। কোনো কিছুই খেতে পারেনা। তিয়াস এ নিয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়ে। পরে এক ডাক্তার ডেকে আনে। ডাক্তার অনির চেকআপ করে বিস্ফোরিত চোখে তিয়াসের দিকে তাকিয়ে বলে,”মিস্টার তিয়াস আপনার ওয়াইফ ক্যান্সারের পেশেন্ট! আর ক্যান্সার অলরেডি বড় আকার ধারণ করেছে আপনি কেন তার ট্রিটমেন্ট করেননি?”
ডাক্তারের কথায় তিয়াস যেনো আকাশ থেকে পড়লো। খুবই উত্তেজিত হয়ে ডাক্তারের হাত ধরে বলে,”এ আপনি কি বলছেন ডাক্তার আমি তো এ ব্যাপারে কিছুই জানিনা। আজ প্রায় অনেকদিন ধরে অনির দুর্বলতা দেখেছি কিন্তু কিছু বলতে গেলে ও বলেছে ‘তেমন কিছু না’ তাই তার কথায় আমি পাত্তা দেইনি। ইদানীং খারাও অবস্থা হওয়া….”

আর বলতে পারেনা তিয়াস বাচ্চাদের মতো কেঁদে উঠে। তারপর ডাক্তারের কাছে মীনতি করে বলে,”বাচানোর কি কোনো উপায় নেই?”
ডাক্তার তিয়াসের হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে মাথা নাড়িয়ে ‘না’ বোঝায় এবং মাথা নিচু করে ফেলে। তিয়াস যেনো পাথর হয়ে যায়। সে শান্ত দৃষ্টিতে অনির দিকে তাকায়। অনির ততোক্ষণে জ্ঞান ফিরেছে এবং সবটাই শুনেছে। তিয়াসের দিকে একটা শুকনো দৃষ্টি নিয়ে খুব আস্তে করে বলে,”আমার পাপের ফল এটা তিয়াস তাই তুমি আমার কোনো চিকিৎসা করিও না। আল্লাহ আমার কথা শুনেছেন, আমার মেয়েটাকে সুস্থ ভাবে পৃথিবীর আলো দেখিয়েছেন এখন তিনি আমায় নিবেন। ওনার উর্ধ্বে যে কেউই নেই তিয়াস! তুমি আনিকাকে দেখো অন্যের মেয়ে হিসেবে নয় নিজের মেয়ে হিসেবে। এতোদিন অনেক কষ্ট দিয়েছি তার জন্য পারলে ক্ষমা করে দিও।”

তিয়াস ততোক্ষণে কেঁদে দিলো চিৎকার করে আর অনি কিছু বলতে গিয়েও পারলো না সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলো। তিয়াস ৪ বছরের আনিকাকে বুকে আগলে খুব কাঁদছে আর ছোট্ট অবুঝ মেয়েটা বাবার কান্না দেখে সেও কাঁদছে আর বারবার অস্পষ্ট ভাবে বলছে,”বা বা মা মা কি অয়েছে?”
তিয়াস পারলো না কোনো জবাব দিতে। কি বলবে তার এই অবুঝ সন্তানকে কি বলে তাকে শান্তনা দেবে?
(অনির কাহীনির এখানেই সমাপ্তি ঘটলো।)

সাদাফ মুচকি হেসে বলে,”সঠিক মানে এখন সেই সময়টা যাচ্ছে সেটাই সঠিক সময়?”
– কথা না প্যাচাইয়া সোজাসাপ্টা বলেন!
– এর জন্য একটা কাহীনি শোনা লাগবে।
– শোনান! তবে হ্যাঁ কোনোরকম উল্টো পালটা কথা বলবেন না আগেই সাফ জানিয়ে দিলাম।
– ওকে তাহলে শোনো, তোমার সাথে যখন আমার বিয়ে হয় তখন থেকে তোমার প্রতি আমার এক অজানা ফিলিংস কাজ করতো যেটা কখনো অনির জন্যও করেনি। প্রথমে অনুভূতি গুলোকে পাত্তা না দিলেও প্রতিদিন সেসব অনুভূতি গুলো আমায় কুড়ে কুড়ে খেতো।

তাই একদিন ডিসিশন নিলাম তোমার সাথে সময় কাটাবো এবং শুরুও করলাম তবে তোমার সাথে ঝগড়া ছাড়া কিছুই হয়নি তবুও আমার বেশ ভালো লাগতো তোমার রাগি ফেস টা আর কথার ধরণ গুলো। বলা যায় সেসবই আমায় গ্রাস করে ফেলেছিলো। তার কিছুদিন পরে আমি জানতে পারি তুমি মেডিকেলের স্টুডেন্ট অথচ আমি একদমই জানতাম না তার উপর তুমি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছো। আমি পড়াশোনা নিয়ে সবসময় সেন্সিটিভ ছিলাম সেটা তোমার ক্ষেত্রে হোক অথবা অনির ক্ষেত্রে। অনির পড়াশোনার জন্য কখনো টাচ পর্যন্ত করিনি।
এমন সময়ই সাদাফের কথার মাঝে বা হাত ঢুকিয়ে দিয়ে রাগে ফুসতে ফুসতে বলে,”তার মানে সুযোগ পে আপনি অনিকে কাছে টেনে দিতেন?”

– আমার কথা এখনো শেষই হয়নি তার মাঝে কথা কেন বলো তুমি? পুরোটা শুনে যা বলার বলবা আর তোমার এই ছোট মাথায় আমার চরিত্রের সার্টিফিকেট দিলেও তা ঢুকবে না তাই চুপ করো।
ইশরা শুধু ভেংচি কাটলো। সাদাফ ইশরার দিকে পাত্তা না দিয়ে আবার বলা শুরু করে,”অনির পড়াশোনা হলেই বিয়ে করবো বলেছি তারপর সব। সে জায়গায় তুমি আমার বিয়ে করা বউ তোমার পড়ালেখার কোনোরকম ক্ষতি হোক আমি একদমই চাইতাম না, যদি তোমার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করতাম তাহলে তুম ইতল্মার লেখাপড়া ভুলে সারাক্ষণ আমার পিছে ছায়ার মতো লেগে থাকতা তাই আমি তোমার আশেপাশে থাকতাম না এবং রুড বিহেভ করতাম।

একদিন তুমি নিজেই সিদ্ধান্ত নিলে যে তুমি লন্ডন যাবে পড়াশোনা কমপ্লিট করতে সেদিন তোমাকে জড়িয়ে ধরে খুব বলতে ইচ্ছা করছিলো ‘এইতো আমার বউয়ের মতো কথা’ তুমি চলে যাওয়ার পর হাজার কষ্ট হলেও তোমাকে কখনো ফোন দিতাম না। যখন আম্মা বা বাবা কথা বলতো আমি চুপচাপ তোমার কন্ঠ শুনতাম কারণ আম্মা বাবা বেশির ভাগ সময়ই লাউড স্পিকার দিয়ে কথা বলতো আর আমি দূর থেকে চুপচাপ তোমার কন্ঠ শুনে নিজেকে সামাল দিতাম যে তুমি ভালো আছো। এমন কি আমি তোমার পিছে লোকও লাগিয়েছিলাম যাতে করে তোমার কোনোরকম বিপদে পড়তে না হয়। জানি লন্ডন আমাদের দেশের মতো নয় এখানে মেয়েদের অনেকটাই রেস্পেক্ট দেয়া হয় কোনোরকম অশ্লীল কিছু করার সাহস কারো নেই তবুও মন শায় দেয়নি।

মাঝে মধ্যে বিজন্যাসের কাজে লন্ডন আসতাম তখনো তোমাকে দূর থেকে একপলক দেখেই চলে যেতাম। অনেক ইচ্ছা করতো তোমার কাছে যেতে কিন্তু তোমার ভবিষ্যতের কথা ভেবে কিছুই করতে পারিনি। বর্তমানে একটা মেয়ের উচিত নিজের যোগ্যতা অর্জন করে সকলকে দেখিয়ে দেয়া যে সেও চাইলেই সব পারে। আমিও চাই আমার বউকে সবাই জানুক চিনুক বুঝুক তাইতো আমার এতো পরিশ্রম।এভাবেই ৫ বছর ছটফট করেছি এই দিনটার জন্য এবং দেখো ঠিকই নিজের মতো একটা দিন উপহার পেলাম। সবই আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছা।
বলেই সাদাফ থামলো আর তাকালো ইশরার দিকে। ইশরার দিকে তাকিয়ে দেখে ইশরা নিঃশব্দে কাঁদছে তা দেখে সাদাফের বুকটা ছ্যাত করে উঠলো।

– এই পাগলি এভাবে কাঁদছো কেন?
– এতোটা ভালোবাসেন আমায়?
– হুম কোনো সন্দেহ আছে?
– আগে বললে কি হতো?
– সব কথা সবসময় মুখে প্রকাশ করতে নেই। আর মুখে প্রকাশ করলেই যে ভালোবাসা হয় তা কে বলেছে? ভালোবাসাটা অনুভূতির আর অনুভূতি প্রকাশ করলেও যা না করলেও তা।
ইশরা এবার সাদাফকে জড়িয়ে ধরে বলে,”আপনি অনেক পঁচা আমাকে ৫ বছর এত্তোগুলা কষ্ট দিয়েছেন।”
– আমিও আপনার চেয়ে কোনো অংশে কম পাইনি ম্যাডাম এখন চলুন দেশে ফিরা যাক আমি মেডিকেল কলেজে গিয়ে তাদের বলে এসেছি যেনো রেজাল্ট টা ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়।

ইস্ক মোবারাক পর্ব ১৫

– এখন যাবো না আপনার সাথে এখানে দুইদিন ঘুরবো তারপর এখান থেকে যাবো। আমার কতো ইচ্ছা জামাইকে নিয়ে ঘোরার।
– ওহ তাই বুঝি তাহলে এখনই চলো ঘুরতে।
দুজন মিলে পুরোটা দিন ঘুরলো তারপর এক হোটেলে রাত কাটিয়ে পরের দিন আরও কিছুটা সময় নিয়ে রাতের ফ্লাইটে বাংলাদেশে পৌঁছে যায়।

ইশরার রেজাল্ট আজই ই-মেইল করেছেন তারা। রেজাল্ট পেয়ে খুশিতে সাদাফ পুরো অফিস, বাসা, ফ্রেন্ড সার্কেলের সকলকে মিষ্টি খাওয়ায়। সেই মেডিকেলের টপ স্টুডেন্টদের মাঝে ইশরার নামও এসেছে। ইশরা কখনো ভাবেনি অন্য দেশের মাটিতে এতোটা ভালো রেজাল্ট করবে হয়তো সাদাফের কঠোরতার কারণেই আজ সে এতোটা সাফল্য লাভ করেছে। সত্যি আজ ইশরার নিজেকে অনেক ভাগ্যবতী মনে হচ্ছে সাদাফের মতো একজন জীবনে পেয়েছে ভেবে।
অটুট থাকুক তাদের ভালোবাসা🖤

সমাপ্ত!

1 thought on “ইস্ক মোবারাক শেষ পর্ব  || couple love story

  1. Golpo gulo rekta boro hole valo hoy khub khub khub khub khub khub khub khub khub khub khub khub khub khub khub khub khub khub khub khub khub khub khub khub khub khub khub khub i valo legeche khub khub khub khub khub khub khub khub khub khub khub khub khub khub khub khub khub khub khub sundor hoeache

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.