হারিয়ে চাইছি তোমাকে - Golpo bazar

হারিয়ে চাইছি তোমাকে শেষ পর্ব 

হারিয়ে চাইছি তোমাকে

হারিয়ে চাইছি তোমাকে শেষ পর্ব 
লেখিকাঃমুনিয়া মিরাতুল নিহা

-‘ তুই যখন সবটাই জানিস তখন একটিবার আমাকে ভালোবাসি বলতে কি সমস্যা তোর?’
-‘ বলেছি তো সবুরে মেওয়া ফলে।’
-‘ তুই একটু ছাদে আয়। এখন কেউই নেই ছাঁদে। ‘
-‘ আচ্ছা ঠিকআছে আসছি আমি।
মৃদুলা ছাদের দিকে অগ্রসর হতে লাগলো। যখুনি ছাঁদে পৌঁছালো কাউকে আর দেখতে পেলো না সবাই বোধহয় এতোক্ষণ ক্লা’ন্ত হয়ে নিজের রুমে চলে গেছে। মৃদুলা হাঁটতে হাঁটতে আর একটু এগোতেই কারো সঙ্গে ধাক্কা লাগে!
মৃদুলা ভ’য় পেয়ে যায়। ছাঁদের এই কোনাটা বেশ অন্ধকার তার উপর যেখানে কেউই নেই হটাৎই আচমকা কারো সঙ্গে ধা’ক্কা লেগে ভ’য় পাবারই কথা।
একটু পরেই আহান উচ্চস্বরে হাসতে লাগলো!

-‘ এতোটা ভ’য় পেয়েছিস? আগে বুঝলে তোকে সারপ্রাইজ না দিয়ে বলেই দিতাম আমি এসেছি। ‘
-‘ কিন্তু এতো রাত্রে তুমি এখানে আসতে গেলে কেনো?’
-‘ তোমাকে দেখার ইচ্ছে মনের ভেতর লুকিয়ে আছে! সেই ইচ্ছে ই পূরন করতে এসেছি। তা ছাড়া আমার বউকে আমি দেখবো না তো কে দেখবে?’
-‘ সোজাসুজি বলো কেনো এসেছো? এখানে ভালো লাগছে না আমার বেশ ভ’য় করছে। ‘
ভ’য় করবে না আর আমার সঙ্গে চলো। আহান মৃদুলাকে নিয়ে চোখ দু’টি বন্ধ করে নিলো। মৃদুলা হেটে চলেছে। একটু পর দু-জনে এসে থামলো তাদের গন্তব্য স্থলে। মৃদুলা চোখ খুলে দেখে একটা নৌকা! পানির উপর একটা নৌকা আছে যেখানে মাঝি নেই। নৌকাটা খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। নৌকার লাল নীল বাতিতে চারিপাশে আলোকিতো হয়ে আছে। মনেই হচ্ছে না এখন মধ্যরাত!.……

পর্ব গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

মৃদুলা বেশ উৎসুক দৃষ্টিতে সবটা অবলোকন করতে লাগলো। বেশ মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
নৌকার ভেতর গিয়ে বসলো দু’জন। এখান থেকে সচ্ছ পানি আর খোলা আকাশ বেশ সুন্দর দেখা যাচ্ছে!
-‘ কাল তো আমাদের বিয়ে। জানিনা কি আছে কপালে। তাই মনের ইচ্ছে পূরন করে নিলাম যদি অধরা থেকে যেতো। তাই আজকেই পূরন করে নিলাম। আমার অনেক দিনের ইচ্ছে ছিলো এরকম একটা নৌকার ভেতর বসে আমি আর আমার মিলা রানী চন্দ্রবিলাস করবো তার সাক্ষী হয়ে থাকবে এই সচ্ছ পানি! আর তুই জানিস আমাদের বিয়েটা কালকে কোথায় হবে?’
-‘ কেনো বাড়িতেই হবে।’
-‘ একদমই না! আমি এতোদিন পর আমার ভালোবাসার মানুষকে ফিরে পেয়েছি একটু স্পেশাল তো হতেই হবে সবকিছু। তাই আমাদের বিয়ে কালকে বাড়িতে নয় একটা জাহাজে হবে! পানির উপরে। জাহাজটাকে বেশ সুন্দর করে সাজিয়েছি। পানির উপর ভাসমান থাকবে জাহাজটা আর আমাদের বিয়েও কালকে ঠিক ওখানেই হবে!’
আহানের কথা শুনে মৃদুলা অবাক হয়ে গেলো! লোকটা পারেও বটে।….

-‘ জাহাজের মধ্যে বিয়ে! এসব তো সিনেমায় হয় বাস্তবে তুমি এগুলা করবে?’
-‘ তো সিনেমাও তো আমরা বাস্তবেই দেখি নাকি? আমাদের লাভ স্টোরি কোনো সিনেমার থেকে কম কিসের বল? অলরেডি জাহাজ সাজানো গোছানো সবকিছুই শেষ কালকে তোকে রেডি করিয়ে ওখানে নেওয়া হবে তারপর আমি আসবো বর সেজে তুই আমার জন্য থাকবি তারপর এক্কিবারে তোকে বিয়ে করে নিয়ে যাবো আমার রাজ্যে! যে রাজ্যে শুধু তুই আমি আর আমাদের ছোট্ট সংসার থাকবে বুঝলি? ‘
-‘ হুম বুঝলাম। তুমি যখন ভেবেছো তো এটাই করবে। আচ্ছা এখন তোমার এই একটা ইচ্ছে পূরন হলো তো এবার আরেকটা ইচ্ছে তোমার জাহাজে বিয়ে করবার মতন অবাক করা ইচ্ছে সেটাও পূরন হবে কাল। ‘
আহান একটু মৃদুলার কথা শুনে। সে এবার মৃদুলাকে তার আরো একটু কাছে এনে বসালো। ঘোর লাগা দৃষ্টি নিয়ে মৃদুলার দিকে তাকিয়ে আছে। গায়ে হলুদের সাজ সজ্জিত এখনো মৃদুলা। ফ্রেশ হবার সুযোগ পায়নি। আহান মৃদুলার মুখখানি ধরে কপালে বেশ গাঢ়ো করে চু’মু একে দিলো। মৃদুলা লজ্জা পেয়ে বসলো। তা দেখে আহান মৃদুলার কোলে মা’থা রেখে শুয়ে পড়লো!

-‘ একবার বল ভালোবাসিস আমায়। ‘
-‘ এতো তাড়া কেনো তোমার? কালকে বলবো যা বলার। আর তো কয়েক প্রহর তারপরে তুমি আমার আমি তোমার তারপরেই সকল অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আমরা দু’জন এক হয়ে যাবো। আর তখুনি তোমাকে বলবো।’
-‘ কি বলবে তুমি?’
-‘ তুমি কি আমাকে বো’কা পেয়েছো? আমি এখন বলি আর তুমি শুনো নাও😒 আমি কালকে বলবো কালকের দিনটা একটা স্মরনীয় দিন হবে। ‘
-মৃদুলার কথায় আহান হেঁসে ওঠলো! মেয়েটা ধরে ফেলেছে ওর চা’লাকি। এতো বছর অপেক্ষা করে আহানের যেনো তর সইছে না ভালোবাসি শোনার। আহান মৃদুলার কোলে মা’থা রেখে শুয়েছে মৃদুলা অতি যত্নে আহানের চুলগুলো টে’নে দিচ্ছে!
-‘ ঠিকআছে। আমাদের এই সুন্দর মিষ্টি মুহুর্ত গুলোর সাক্ষী হয়ে রইলো আজকের এই প্রকৃতি। যদিও বা কোনোদিন এক হতে না পারি তো কি হয়েছে? আমাদের মনের তো মিলন ঘটেছে এতেই সন্তুষ্ট। ‘

-‘ শুধুমাত্র তোমার ভুলের জন্য এতোকিছু হয়েছে সামাদ! মৃদুলা তোমার ভুলের জন্য পালিয়েছে। ভাগ্য ভালো আহান কিছু টের পায়নি নতুবা আমাকে যে কি করতো!”
সামাদ মা’থা নিচু করে নিলার সব কথা শুনে যাচ্ছে! সত্যিই তো তার জন্য সবকিছু হয়েছে তারা দু’জনেই এটাই ধরে নিয়েছে। নিলা শেষবারের মতন এসেছে সামাদের সঙ্গে দেখা করতে যদি কোনো কিছু করা যায়।’
-‘ কিছুই কি করা যাবে না আর? কোনো উপায় নেই ওদোর আলাদা করার?’
-‘ মৃ’ত্যু! শুনেছো তুমি মৃ’ত্যুই পারে ওদের এখন আলাদা করতে। না হলে আহান যে-রকম ছেলে এতোবছর মৃদুলার জন্য অপোক্ষা করেছে সে এতো সহজে ছাড়বে না মৃদুলাকে! আমি আহানকে পায়নি তো আর কাউকে পেতে দিবো না। আমরা দু’জনে আমাদের ভালোবাসার মানুষকে পায়নি তো কি হয়েছে আমরা ওদেরকেও এক হতে দেবো না কিছুতেই! ‘

নিলার কথায় সামাদ হাত মেলালো। ওরা মেতে ওঠলো ওদের প্র’তি’শো’ধের খেলায়!
সকাল থেকে দু পরিবারে বেশ ব্যস্ত সময় কাটছে। কারোর দম ফেলার সুযোগ নেই এরূপ অবস্থা! সকাল থেকে কার্যক্রম শুরু হয়ে গিয়েছে। পুরো বাড়ি সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। লোকজন এসেছে ভরপুর। সারা বাড়ি লোকজনে গমগম করছে। তারপরে আবার আহানের জে’দের কাছে হার মেনে সবাইকে ওই জাহাজে যেতে হবে। দুপুরের আজান দিয়ে ফেলেছে অলরেডি। আহানরা নামাজ পড়ে বেরোবে আর একটু পর! মৃদুলাও নামাজ পড়ে একটু বসেছিলো তখুনি পার্লার থেকে লোক এসে ওকে সাজাতে শুরু করলো। বিয়েতে সবাই লাল রঙের টুকটুকে শাড়ি পড়ে কিন্তু আহানের কথামতন আহানের দেওয়া সাদা রঙের লেহেঙ্গা পড়েছে মৃদুলা! লেহেঙ্গা টা সাদা হলেও এর পাড়ে লাল রঙের মো’টা করে পাথরের ডিজাইন দেওয়া আছে। দো পাট্টায় পাতলা নেটের পাড়ের দিকে সুন্দর করে পাথরের কাজ বসানো আছে। মৃদুলার লেহেঙ্গা সাদা রঙের সেইজন্য বেশি ভারী মেকআপ না করে মৃদুলাকে হালকা করে একটু মেক-আপ করানো হয়েছে। চুলগুলোকে খোঁপা করে রেখেছে সামনের দিকটা ফুলিয়ে। আর গহনা তো আছেই! সব মিলিয়ে মৃদুলার সাজ কমপ্লিট হযে গেছে। মৃদুলাকে দেখে মনে হচ্ছে যেনো আকাশ থেকে কোনো সাদা পরী নেমে এসেছে!

মৃদুলারা চলে গেলো জাহাজে। জাহাজটিও বেশ বড়ো ধরনের। জাহাজটিকেও বাড়ির মতন সাজানো হয়েছে পুরোটা জৃরে। ভেতরেও নানা রকম ফুল সাজ দিয়ে ভরিয়ে রাখা। জাহাজের বাহিরে বেশ বড়ো অক্ষরে লেখা আছে “আহান ও মৃদুলার শুভ বিবাহ” জাহাজে ঢোকার পথে লেখাটা দেখে অজান্তেই ঠোঁটের কোনে মুচকি হাসি ওঠে। মৃদুলাকে একটা রুমে বসানো হয়েছে অপেক্ষা করা হচ্ছে আহানের জন্য। মৃদুলার চোখ যায় পানিতে! নদীর স্রোত যেনো আজকে উপচে পড়ছে! যেনো সব ভা’সিয়ে নিয়ে যাবে! একেক জন এসে দেখে যাচ্ছে বউকে। হঠাৎই নিলাকে দেখতে পায় মৃদুলা!
নিলা হাসি মুখে মৃদুলার কাছে যায়।

-‘ কংগ্রাচুলেশনস জানাতে এসেছো আমার আর আহানের বিয়ের?’
-‘ কংগ্রাচুলেশনস ই বলতে পারো তবে সেটা বিয়ের নয় অন্য কিছুর। এমন কিছু ঘটবে যার জন্য তুমি প্রস্তুত নও। ‘
নিলার কথা কিছুই বুঝতে পারলো না মৃদুলা কিন্তু ভ’য় গেছে মনের মধ্যে আহান ঠিক আছে তো?
আমার ভ’য়ের মধ্যেই আহানকে দেখা গেলো। উনাকে দেখে আমি নিশ্চিত হলাম। কি সুন্দর লাগছে উনাকে। সাদা রঙের পাঞ্জাবীকে! মুগ্ধ নয়নে কতক্ষণ তাকিয়ে রইলাম। আমি একপাশে আর আহান এক পাশে আমাদের মাঝখানে লোকজন চলাচল করছে।
কাজিনদেন দু’ষ্টুমি করার পর কাজী তাড়া দিতে লাগলেন বিয়ের জন্য।
কাজী সহ আরো পাঁচজন গন্য মান্য ব্যাক্তি এসে উপস্থিত আমার সামনে। আমার আনন্দ যেনো আর ধরছে না একটৃ পরই আমি আহানের হবো!
আমি কবুল বলছি প্রথমবার কবুল বলে যেই না দিত্বীয় বার কাজীর কথানুযায়ী মৃদুলা একবার কবুল বলে দিত্বীয় বার কবুল বলতে যাবে ঠিক তখুনি নিলা ব’ন্দু’ক হাতে নিয়ে নিলার সামনে এসে দাঁড়ালো! উপস্থিত সবাই ভড়কে গেলো নিলাকে এখানে এভাবে দেখে!

-‘ তুমি এখানে ব’ন্দু’ক হাতে এসেছো কেনো? কি করতে চাইছো তুমি?’
-‘ আহান আমার হবে না তো আর কাউকে হতে দিবো না আমি আহানকে।’
নিলার কথায় সামাদও তাল মিলায়।
-‘ বহুবার বলেছি আমার হয়ে যাও মৃদুলা! আমার হয়ে যাও। কিন্তু তুমি শুনলেই না। তো আমি যখন তোমাকে পাবো না আর কাউকে আমি পেতে দিবো না!’
-‘ মৃদুলা এসব কি হচ্ছে? ‘
-‘ আব্বু এই নিলা আর সামাদই আমাকে সেদিন তুলে নিয়ে গেছিলো যাতে আমাদের বিয়ে না হয়। সে নাকি আহানকে ভালোবাসে আর সামাদ ও নাকি আমাকে ভালোবাসে তাই তারা আমাকে তুলে নিয়ে গেছিলো তাদের পরিকল্পনা মতন আজকে আহানের সঙ্গে নিলার বিয়ে হতো আর এই সামাদ বিয়ে করতো আমাকে!’
মৃদুলার কথা শেষ হতেই মৃদুলার আব্বু গিয়ে ঠাস করে দু’টো চ’ড় বসিয়ে দেয় সামাদের গালে। সামাদ আরো রে’গে যায়।….

-‘ যতোই যা করুন না কেনো আজকে। না এই বিয়ে হবে আর না মৃদুলা আহানকে এক হতে দিবো আমি।’
পরিস্থিতি উল্টো দিকে যাচ্ছে দেখে আহান মৃদুলার কাছে আসতে ওঠে দাঁড়ালো। নিলার হাতে ব’ন্দু’ক মানে সে যা খুশি করতো পারে। আহান আর ঝুঁকি নিরো না! একবার হারিয়েছে তার ভালোবাসাকে আর হারাতে পারবে না!….
আহানের যাবার মাঝখানেই নিলা মৃদুলার আরো কাছে গেলো!
-‘ ওপারে ভালো থেকো আহানের মিলা রানী! আমি তোমার মতন অতো উদার নই যে নিজের ভালোবাসাকে অন্যের হাতে তুলে দিবো!’
মৃদুলা আর কিছু বলার সুযোগ পেলো না! নিলা ব’ন্দু’ক থেকে কয়েকটি গু’লি চালালো! সবগুলো গু’লি গিয়ে বিধলো মৃদুলার বুকে। সাদা রঙের লেহেঙ্গা টি র’ক্তে রঞ্জিত হয়ে গেলো কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেেই! মৃদুলা শেষ নিশ্বাস এখনো ত্যাগ করেনি। আহান গিয়ে ঝাপটে ধরে মৃদুলাকে!

মৃদুলা বলে জোরে গগন কাঁ’পা’নো চি’ৎ’কার দেয়! সে চি’ৎ’কারে সবাই কেঁপে ওঠেছে! আহান মৃদুলাকে কোলে নিয়ে কেঁদে যাচ্ছে পা’গলের মতন! যাকে পাবার জন্য এতো বছর অপেক্ষা করেছে। এতো অপেক্ষার পর যখন এক হতে চলেছিলো তখন সে এই পৃথিবী থেকেই বি’দায় নিচ্ছে তাও নিজের চোখের সামনেই! এদৃশ্য যে কতোটা নিষ্ঠুর আর কঠিন সেটা কেবল যে দেখেছে সেই বুঝতে পারে!
আহা সমানতালে চি’ৎকা’র করে কেদে যাচ্ছে মৃদুলাকে নিয়ে!…
মৃদুলা আধো আধো স্বরে কিছু একটা বলার চেষ্টা করছে।
-‘ ভা ভালোবাাসি তোমাকে। নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। খুববব বেশি ভালোবাসি। আমরা আবার এক হবো পর জনমে। খুবববব ভালোবাসি তোমাককককককে!’

শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলো মৃদুলা! ভালো করে ভালোবাসিও বলতে পারলো না নিজের প্রিয় মানুষটিকে তার আগেই ‘নিষ্ঠুর নিয়তির শিকা’র হয়ে তাকে বিদায় নিতে হলো পৃথিবী থেকে!
আহান নির্বাক হয়ে তাকিয়ে আছে মৃদুলার লা’শের দিকে। একটু আগেই তো এখানে আসা মাত্র মৃদুলা কতো উৎফুল্ল আর হাসিখুশি ছিলো আর এখন আহানের কোলে মৃদুলার নিথর দেহ পড়ে আছে!
মৃদুলার বাবা মা সবাই কাঁদছে মেয়ের জন্য। আহান নির্বাক হয়ে গেছে। সবাই কাঁদছে কিন্তু নিলার মুখে হাসি! যেনো তৃপ্তির হাসি।
সে সফল হয়েছে আহান আর মৃদুলাকে আলাদা করতে! সামাদ ভাবেও নি নিলা এভাবে আলাদা করবে ওদের দু’জনকে!
আহান ধীর পায়ে মৃদুলার লা’শ ছেড়ে নিলার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো! শান্তি ভঙ্গিতে নিলার সঙ্গে কখা বললো
-‘ আমি বলেছি তোকে কখনো ভালোবাসি?’
-‘ তুমি বলোনি তো কি হয়ছে আমি তো তোমাকে ভালোবাসি তুমি বুঝোনি সেটা। তুমি মৃদুলা মৃদুলা করতে নেও তাকেই শেষ করে দিয়েছি আমি এবার তুমি পুরোপুরি আমার!’
-‘ আমি ম’রে যাবো তাও তোর হবো না! আমি মৃদুলার লা’শ নিয়েই থাকবো!’

আহানের কথায় নিলার রা’গ যেনো আরো বেড়ে গেলো সে এবার হিং”স্র হয়ে ওঠলো! উপস্থিত কারোরই নিলাকে থামানোর নাম নেই। যা হবার তো হয়েইছে। কারো মধ্যে আর শক্তিও নেই! যে যার নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে! বিয়ের সুন্দর পরিস্থিতি শ’শা’নে পরিনত হয়েছে! নিলা রে’গে গিয়ে এবার মৃদুলার লা’শটা পায়ে ঠেলে নদীতে ফেলে দিলো!
জাহাজের একপাশে পড়ে ছিলো মৃদুলা! সেখানে নিলার পায়ে ঠে’লে দেওয়াতে মুহুর্তের মধ্যেেই মৃদুলার লা’শ গিয়ে নদীতে পড়ে। একটু একটু করে নদীর গর্ভে তলিয়ে যেতে থাতে মৃদুলা! আহান তড়িঘড়ি করে জাহাজের সেই খানটায যায় কিন্তু চোখের পলকের মধ্যেেই নদী টেনে নিয়েছে তার মিলা রানী কে! আহান একটা ঘোরের মধ্যে রয়েছে তন্দ্রা কাটছে না! বুকের ভেতর চিনচিনে কষ্ট হচ্ছে যা সহ্য করার নয়। চি’ৎ’কার দিয়ে ওঠলো মৃদুলা বলে! সেই চি’ৎ’কা’রের আওয়াজে উপস্থিত সকরের টনক নড়ে ওঠলো!

-‘ তুই বলেছিলিস আমার হবি নুড়ি পাথর! কালকেও বলেছিলিস তুই আর আজকে আমার না হয়ে আমাকে ফাঁকি দিয়ে একবারে চলে গেলি? কত্তোবার করে বললাম একটা বার বল ভালোবাসি! তুই বললি না! বলেছিলি সকল অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজকে বলবি কই গেলি তুই? বললি না আমাকে ভালোবাসিস? উঁহু বলেছিস তো শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার বলছিলিস তুই আমাকে ভালোবাসিস তাও আধ ভাঙা গলায়! পুরোপুরি বলে ওঠতে পারিস নি নিষ্ঠুরতম পরিহাস ঘটলো আমার সঙ্গে! চলে গেলি তুই একেবারে! একবার #হারিয়ে_চাইছি_তোমাকে পেয়েওছি কিন্তু এবার যে হারালাম আর কি ফিরে পাবো আমি? পাবো না আর আমার মিলা রানী, আমার নুড়ি পাথর আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। আমাকে একলা করে দিয়েছে! আমি কি করে থাকবো তাকে ছাড়া? আমার যে ভীষন কষ্ট হচ্ছে! আমিও ম’রে যাবো! আমিও ফিরে আসবো!’
ইতিমধ্যে পুলি’শকে ফোন করফোন করা হয়েছে কিন্তু আসতে দেরি হচ্ছে! মৃদুলা যেখানে পড়েছে সেখানে খোঁজার জন্য ডুব দিয়েছে সামাদ! আহানের বাবা মা সবাই মিলে নিলার দিকে রা’গা’ন্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মৃদুলাার মা তো কতোবার থা’প্প’ড় দিয়েছে!

-‘ কেনো মা’রলি আমার মেয়েটাকে? কেনো করলি? একটাই মেয়ে ছিলো আমার!’
-‘ তোমাদের মেয়ে যে আমার পথের কা’টা হয়ে গেছিলো কি করবো বলো? তাই শেষ করে দিয়েছি একেবারে! এবার আমি আর আহান এক হবো!’
আহানের সমস্ত ঘোর কেটে গেলো এক লহমায় নিলার কথা শুনে!
সে রে’গে নিলার কাছে গিয়ে নিলার হাত থেকে ব’ন্দুকটা টেনে নিয়ে নিলার দিকে তাক করলো! ব’ন্দু’ক চালাতে গিয়েও পারলো না পু’লিশের জন্য। ঘটনাস্থলে ইতিমধ্যেেই পু’লি’শ এসেছে সঙ্গে ডুবুরি টিম নিয়ে নদীতে খুজাখুজি চলতে লাগলো। নিলাকে এখন পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। সামাদ যে নদীতে ডৃব দিলো এখনো ওঠেনি কিংবা কোথায় গেছে কেউই দেখে নি।

আহান জাহাজের সেই পাশটায় দাঁড়িয়ে রইলো যেখানে মৃদুলার লা’শ ছিলো! মৃদুলা পড়ে গেছে কিন্তু মৃদুলার মা’থার দোপাট্টা টা রয়ে গেছে আটকে। আহান সযত্নে সেই দোপাট্টা টা হাতে নিলো।
-‘ নুড়ি পাথর! তুই এত্তো সহজে চলে গেলি আমাকে ছেড়ে? ফিরে আসবি না আমার কাছে🥺 চলে আয় না আবার বাঁচি একসঙ্গে। কতো কথা না বলা রয়ে গেলো তোকে ভালোবাসিও বললি না। ফিরে আয়। ‘
আহান মৃদুলার নাম ধরে কাঁদতে কাঁদতে একসময় জ্ঞান হারিয়ে ফেললো!
আহানোর বাবা মা সবার চোখে পানি। উপস্থিত কেউই ঘটনাটি কাম্য করেনি। সবার মনে কতো খুশি ছিলো কতো আনন্দ ছিলো আজকে ওদের বিয়ে বলে। আহানও কতো খুশি ছিলো তার ভালোবাসার মানুষটিকে ফিরে পাবব বলে। কিন্তু সব আশা ভালোবাসা, খুশি, আনন্দ সব এক লহমায় শেষ করে দিলো নিলা!

পাঁচ বছর পর……
-‘ এই এই তুমি কোথাও দেখেছো আমার নুড়ি পাথরকে? নুড়ি পাথর সেই যে গেলো আর ফিরলোই না! দেখো না দেখো এই যে আমার মিলার উড়না। ওকে দেখেছো? এরকম সাদা জামা পড়েছিলো।’
ছেড়া একটা শার্ট পড়ে মুখে একগাদা দাড়ি নিয়ে, মাথার বড়ো বড়ো চুল নিয়ে এক লোক সামনে বাজারে এসে জিগোস করছিলো। যেই লোকটিকে জিগেস করছিলো সে বিরক্ত হয়ে গেলো!
-‘ আরে পা’গল নাকি? এতো দেখছি পা’গলই । কি সব ওড়না নিয়ে আবোল তাবোল বকছে। একবার বলছে মিলা তো আর এক বার বলছে নুড়ি পাথর! কোনো মানুষের নাম কি এসব হয় নাকি? কে যে এই পা’গলকে রাস্তায় ছেড়েছে!’
-‘ খবরদার আমার ভাইকে পা’গ’ল বলবেন না! ও পা’গল নয় নিয়তি ওর সঙ্গে নিষ্ঠুর পরিহাস করেছে। যার জন্য আজকে এতো বছর পরেও আমার ভাইয়া এরকম মা’ন’সিক রো’গী হয়ে গেছে!’
-‘ তুই আবার আমাকে পা’গল বলছিস? তুই জানিস না? আমার মিলাকে? আমার নুড়ি পাথরকে তো খুঁজছি আমি। আমাদের বিয়ে হবে তো? দেখ না এই বিয়ের আসর ছেড়ে ও কোথায় চলে গেছে! বলেছিলো আমাকে ভালোবাসি বলবে কই তাও বললো না।’

লতা এবার কেঁদে দিলো সহ্য করতে না পেরে! সেই পাঁচ বছর আগে মৃদুলাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি! ডুবুরিরা অনেক খুঁজেছে কিন্তু মৃদুলার লা’শ আর খুঁজে পাওয়া যায়নি! আহান যখন জ্ঞান ফিরে দেখে মৃদুলার লাশ খুঁজে পাওয়া যায় নি। কতোক্ষন চুপ করে ছিলো। সবাই অনেক বুঝিয়েছে মৃদুলা বেঁচে নেই তখন গু’লি লেগেই মা’রা গেছিলো এখন শুধু লা’শটা খুঁজে পাবার পালা কিন্তু তাও কেউ খুঁজে পায়নি। আহান মৃদুলার সেই দোপাট্টা নিয়ে রুমে চলে যায়। নিজেকে রুম বন্দি করে রাখে। কারো সঙ্গে কথাও বলে না খাওয়া দাওয়াও করে না। এরকম করতে করতে রুম থেকে বেরিয়ে বলে মৃদুলা চলে গেছে ওকে খুঁজতে হবে। কালকে ওদের বিয়ে। এরকম করতে করতে আহানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সেই হাসপাতাল থেকেও সে বেরিয়ে যেতো মৃদুলাকে খুঁজতে।

একসময় বাধ্য হয়ে আহানকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সে বাড়িতেও থাকে না। সেই ছোট্ট দু রুম বিশিষ্ট বাড়িটা যেখানে মৃদুলা আর সংসার পেতেছিলো চার মাসের জন্য সেই ছোট্ট বাড়িটায়ই থাকে আহান! উপায়ন্তর না পেয়ে সেখানেই নতুন বাড়ি বানিয়ে আহানের সঙ্গে থাকছে সবাই। কিন্তু আহান আজও তার নুড়ি পাথর, মিলা রানীকে খুঁজে বেরায়। এখনো সেই ঘটনায়ই আটকে আছে! তাদের বিয়ে হবেে। আহান এখনো মেনে নিতো পারছে না! মানবে কি করে তাদের এক হবার দিনই আলাদা হয়ে গেছে তারা
নিলাকে পু’লি’শ ধরার পর পালিয়ে যাবার সময় এ’ক্সি’ডে’ন্ট করে আর সেখানে নিজের একটি পা হারায়! নিজের পা’পের ফল ভো’গ করছে সে অন্ধকার কুঠুরিতে। তবে আহানের পরিস্থিতি দেখে সময়ের সাথে সাথেও সে অনুতপ্ত। হয়তো সে কোনোদিন ফিরবে কিন্তু ঘে বাঁধা হয়তো হবে না কারোর সঙ্গে! হয়তো এটাই তার মৃদুলা আর আহানকে আলাদা করার শা’স্তি।

সেই ঘটনায় সাত দিন পর সামাদের লা’শ উদ্ধার করে পুলি’শ!
ম’রার আগে একটা চিঠি লিখে যায়,
জানি ক্ষমা পাবার যোগ্য নয়তবুও ক্ষমা করে দিও আমাকে। আহানের কাছে পা ধরে ক্ষমা চািলেও ক্ষমা পাবার যোগ্যতা আমার নেই! আহানের যে অবস্থা তার জন্য আমিও দায়ী আমি চাইলেই নিলাকে আটকাতে পারতাম কিন্তু করিনি। মৃদুলাকে পাবার জন্য। বুঝিনি জোর করে আর যাই হউক ভালোবাসা হয় না! সেইজন্যই তো মৃদুলা আমাদের ফাঁকি দিয়ে চলে গেলো। আহানের এই অবস্থা আমি
এগুলা মেনে নিতে পারছি নাা তাই চলে গেলাম। পারলে ক্ষমা দিও আমাকে।
সামাদও চলে গেছে মৃদুলার সঙ্গে সঙ্গে! কিন্তু আহান রয়ে গেছে তার নুড়ি পাথর, তার মিলা রানীর জন্য!
-‘ নুড়ি পাথর কোথায় যাচ্ছিস তুই? আমি আসছি আমি আসছি তোর পিছু পিছু। তুই আমাকে ভালোবাসি বলবি না? খুব বলছিলি বলবি কিন্তু পুরোটা বলে যা। নুড়ি পাথর আমি আসছি তোর কাছে!
আহান দেখতে পেলো মৃদুলা সাদা লেহেঙ্গায বউ সেজে তার দিকে মিটিমিটি হাসছে!
-‘ আমি আসছি মৃদুলা তোমার কাছে আসছি। একবার #হারিয়ে_চাইছি_তোমাকে পেয়েওছি। এবার আর হারাতে দিবো না! আমি আসছি।’

এভাবেই আহান নিজের কল্পনাতে মৃদুলাকে সাজিয়ে কথা বলে! সব ভালোবাসা সুন্দর হয় না। আহান দির্ঘ সাত বছর অপেক্ষা করার পরও মৃদুলাকে পায়নি। এক হয়েও এক হলো না! পূর্নতা পেলো না তাদের ভালোবাসা। রয়ে গেলো অপূর্ন! হয়তো কিছু ভালোবাসা অপূর্নই থাকে যা কখনো পূর্নতা লাভ পায় না।
হয়তো আহান আর মৃদুলার পরিনতি নিষ্ঠুরতম ভাবে হয়েছে বিয়ের দিন যেদিন তাদের এক হবার পালা ছিলো সেদিনই একেবারে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে মৃদুলা আর সঙ্গে আহানকেও জিবন্ত লা’শ করে গেছে! তবুও ওপারে ভালো থাকুক মৃদুলা আর এপারে আহান ও ভালো থাকুক তার কল্পনায় নুড়ি পাথর আর তার মিলা রানীকে নিয়ে!
যদি পরজনম বলে কিছু থাকে তখন না হয় এক হবে।

হারিয়ে চাইছি তোমাকে পর্ব ১৯

[ কালকে বলেছিলাম আজকের পর্ব ধা’মাকা হবে! এতোদিন গল্প পড়ার পরেও হয়তো কেউই বুঝেননি এটা স্যাড এন্ডিং হবে। কিন্তু আমি শুরু থেকেই ভেবে এসেছি এটার এন্ড এমন হবে। এতোদিন বলতেন পর্ব ছোটো নিন আজকে বড়ো করে পর্ব দিয়েছি এবার আপনারাও বড়ো করে মন্তব্য করবেন। এতোদিন পাশে ছিলেন তার জন্য ধন্যবাদ। কিরকম হয়েছে মন্তব্য করে যাবেন। জানি খা’রাপ লেগেছে আমার নিজেরই খারা’প লেগেছে। লেখার সময় হাত কা’পছিলো🥺 কিন্তু কিছু করারর নেই। ধন্যবাদ সকলকে। আবার হাজির হবো নতুন গল্পে তখন পাশে থাকবেন কিংবা আহান আর মৃদুলাকে আবারো নিয়ে আসবো কোনো নতুন গল্পে। এতো বড়ো গল্প পড়লেন এতোদিন সবার মনের অনুভুতিটা জানতে চাই কি রকম লেগেছে গল্পটা পড়ে। শেষবারের মতন একটু কমেন্ট করে যাবেন।
আল্লাহকে স্মরন করুন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করুন আসসালামু আলাইকুম সবাইকে]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.